মসজিদে যাওয়ার সময় করোনা প্রতিরোধে ১০টি দিক মনে রাখা খুবই জরুরি

করোনা প্রতিরোধে মসজিদে যাওয়ার সময় অবশ্যই কিছু দিক খেয়াল রাখতে হবে।
করোনা প্রতিরোধ

এটা অবশ্যই সত্যি যে, মহান রাব্বুল আলামিন যাকে রোগ এবং যাকে ইচ্ছা মৃত্যু দিতে পারেন । তবে আমদেরকেও মহান আল্লাহ সুবহানা তা’য়ালার উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে এবং সাথে সাথে যতেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। মহান আল্লাহ তা’য়ালার দয়ায় ও আমাদের দোয়া এবং সচেতনতাই পারে আমাদেরকে করোনা সহ সকল কঠিন ও ভয়াবহ রোগ থেকে মুক্তি দিতে।
মসজিদে যাওয়ার সময় করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে আমাদেরকে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলা আবশ্যিক । এই ১০ টি উপায় মেনে চললে ইনশাল্লাহ আমরা করোনা মহামারি সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সক্ষম হব।

একটি ভুল সিদ্ধান্তে কাতার ও আমিরাতে করোনার ভয়ংকর রূপ।

  •  যাদের করোনার লক্ষণ সমূহ থাকবে তাদের মসজিদে না যাওয়া

করোনা প্রতিরোধে এই বিষয়টি মেনে চলা খুবই জরুরি।  যাদের মধ্যে করোনার লক্ষণ সমূহ দেখা দিবে তারা যেন মসজিদে না যায়, এতে করে অন্য সকল মুসল্লিরাও সংক্রমণ এর ঝুঁকিতে থাকবে। সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া, গলাব্যাথা সহ করোনার যেকোন লক্ষণের কমপক্ষে ২ টি লক্ষণ দেখা দিলে ঐ রোগির মসজিদে যাওয়ার ব্যপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রয়োজনে কোন বিজ্ঞ আলেম এর পরামর্শ নিতে হবে।

  • সর্দি কাশি আছে এমন ব্যক্তির মাক্স ব্যবহার করা

অবশ্যই কোন সুস্থ মানুষের নামাজ আদায়ের সময় মুখ ঢেকে রাখা যায়না তবে কারণ বশত তা করা যাবে। প্রয়োজনে ওলামায়ে কেরামের কাছ থেকে এই বিষয়ে জেনে নেওয়া যায়।

  • মসজিদ কমিটিকে অবশ্যই মসজিদের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে খেয়াল রাখতে হবে

আল্লাহ তা’য়ালার পবিত্র ঘর মসজিদ তারপরেও ধুলা-বালি পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মসজিদের টাইলস বা ফ্লোর পরিষ্কার রাখলে এর থেকে করোনার সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

  •  বাসা থেকে সঙ্গে জায়নামজ নিয়ে যাবেন

মসজিদে যাওয়ার সময় বাসা থেক জায়নামাজ নিয়ে যেতে পারেন। এতে করে ফ্লোর থেকে করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবেন।

  •  মসজিদে ডোকার সময় সাবান দিয়ে হাত ধুয়া

মসজিদের প্রবেশ করার সময় অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিবেন। অথবা অজু করার সময় সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেয় যেতে পারে।

  •  মসজিদে রাখা তোয়ালে বা গামছায় হাত মুখ মুছা থেক বিরত থাকুন

মসজিদে রাখা হাত-মুখ মুছার তোয়ালে বা গামছার মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই বাসায় থেকে অজু করে মসজিদে আসুন। অথবা মসজিদে অজু করলেও গামছা বা তোয়ালেতে হাত-মুখ মুছা থেকে বিরত থাকুন।

  •  নামজ শেষে মসজিদে বেশিক্ষন অবস্থান না করা

ওয়াক্তের নামাজ শেষ হয়ে গেলে মসজিদে বসে না থেকে বা নফল ইবাদত না করে তা বাসায় এসে করুন। কোরআন তেলওয়াত বা অতিরিক্ত নফল ইবাদত সমূহ বাসায় এসে করতে পারেন।

  •  নাক, মুখ ও চোখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকা

করোনার সংক্রমণ বেশি হয় হাত থেকে নাক, মুখ ও চোখে দিয়ে। মসজিদে জনসাধরণের সমাগম ঘটে তাই এখানে করোনার জীবাণু থাকার সম্ভাবনা থাকে। সুতারাং করোনা প্রতিরোধে মসজিদে অবস্থান কালে খেয়াল রাখবেন যাতে এইসব জায়গায় হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।

  • মসজিদ থেকে বের হয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেয়া

মসজিদ থেক বের হয়ে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিবেন এতে করে আপনি করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

আসুন আমরা সবাই করোনা প্রতিরোধে সচেতন হয় এবং আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে এই মহামারি থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি।

মহান রাব্বুল আলামিন সকল মুসলমান ভাইদের করোনার প্রকোপ থেকে রক্ষা করুক এবং আমদেরকেও ইসলামি জীবন মেনে চলা ও করোনাসহ সকল রোগের সংক্রমণ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুক। আমিন।

 

One thought on “মসজিদে যাওয়ার সময় করোনা প্রতিরোধে ১০টি দিক মনে রাখা খুবই জরুরি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *