বিশ্বাসঘাতকতার শিকার সুলেইমানি

বিশ্বাসঘাতকতার শিকার সুলেইমানি

Sulemani
সবারই প্রশ্ন ছিল, সুলেইমানি কেন এ রকম প্রকাশ্যে ইরাকে চলাফেরা করছিলেন? এতই দুর্ধর্ষ যদি তাঁর নেটওয়ার্ক, তাহলে কেন বিপদের কোনো আভাসই ইরানিরা পায়নি? গুমরটা ফাঁস করেছেন ইরাকের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল-মাহদি। কোনো সামরিক নেতা হিসেবে নয়, সুলেইমানি ইরাকে এসেছিলেন কূটনৈতিক পাসপোর্টে, রাষ্ট্রীয় সফরে, সাধারণ বিমানে অতিথি হিসেবে। এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে। ট্রাম্প ইরাকি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন তিনি যাতে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেন। সুলেইমানির জন্য সৌদি আরব সমঝোতার বার্তাও পাঠিয়েছিল। তাই তিনি সশরীরে বাগদাদে এসেছিলেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে। ঘটনাটা ঘটেছে অনেকটা সৌদি সাংবাদিক খাশোগি হত্যার কায়দায়। সৌদি আরব আলোচনার জন্য জামাল খাশোগিকে তুর্কি দূতাবাসে ডেকে এনে হত্যা করেছিল।

ইরান ও আমেরিকা যুদ্ধ

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই তাঁকে হত্যা করে শান্তির এই চিকন সুতাটি ছিঁড়ে ফেলা হয়।

 

সুতরাং সুলেইমানি ছিলেন ইরানের সরকারি বার্তাবাহক। যুদ্ধ শাস্ত্রে এবং কূটনীতিতে চিরায়ত একটা নৈতিকতা হলো, বার্তাবাহককে হত্যা না করা। সুলেইমানিকে হত্যা করে আসলে শান্তির বার্তাকেই হত্যা করা হলো। ইরাক জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক আইনের এই ন্যক্কারজনক লঙ্ঘনের প্রতিবাদ জানাবে। তবে আমরা জানি, তাতে কিছুই হবে না।

 

ট্রাম্প যদি হত্যার নির্দেশই দেবেন তাহলে শান্তির উদ্যোগ কেন নিতে বললেন? নাকি সেটা ছিল এক পাতা ফাঁদ। নির্দেশ তিনিই দিন বা দিক রাষ্ট্রের ভেতরের রাষ্ট্র, বা ইসরায়েল—ইরানের সঙ্গে শান্তি তারা চায় না। আমেরিকার যে মধ্যপ্রাচ্য-নির্ভরতা, ইরান তাকে কোনোভাবেই মানতে চায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *